আমার বর্ণিল বৃহঃপতিবার

লিখেছেন
উবায়দুল ইসলাম

লিখেছেন: Obaidul Islam || বৃহঃপতিবার এক অক্সিজেনের নাম।

এই অক্সিজেনের নাম বাড়ি যাওয়া। সাপ্তাহ পেরিয়ে সাপ্তাহ আসতেই ফুরিয়ে যায় অক্সিজেন। সকাল থেকে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্ষীণ হতে থাকে। চাপা উত্তেজনা,অস্থিরতা সব ভর করে মনে। হাঁপিয়ে উঠা মনকে স্থির করার জন্য কত ধরণের প্রচেষ্টা! পড়ার টেবিলে অস্থির মনকে স্থির করার জন্য অনবরত ঝুঁকতে থাকা। কখন দুপুর পেরিয়ে বিকেল হবে— বারবার ফোন করে জেনে নেওয়া। বিকেল হলেই মাদ্রাসায় উপস্থিত হওয়া চাই। এক মিনিট কথা বলার জন্য কত দৌড়াদৌড়ি। ‘হুজুর এক মিনিট কল করব’ হুজুর বলতেন: ‘মিসড কল দিলে এক টাকা আর কল দিয়ে কথা বললে দুই টাকা’ ভাবতাম মিসড কল দিলেও টাকা! মানুষ দুর্বলতা পেলে ঘায়েল করতে ভুলে না। আমার ভাবনাজুড়ে এখন টাকা না— বাড়ি যাওয়া। কল ধরার পর বিশাল হুঁশিয়ারিতে বলে দেওয়া; খুব শীঘ্রই আসা চাই। অথচ গ্রামের জীবন ছিলো কত সুন্দর! স্বাধীন দেশের স্বাধীন মানুষ স্পষ্টত। আর এখানে চার দেয়ালের ভেতর বন্ধি জীবন যাপন করা। আহ কত নিষ্ঠুর! আমার কেড়ে নেওয়া সুন্দর শৈশব। বৃহঃপতিবার হলেই ক্লাসে বসে টাকা জোগাড় করতাম ক্রিকেট খেলার বল কেনার জন্য। হাফ ক্লাস। ছুটি হলেই সমস্বরে বলে উঠতাম। ‘ছুটি, গরম গরম রুটি, এক কাপ চা- সবাই মিলে খা’ কত সুন্দর ছিলো সেই বেলা। মন চাইলে উড়ে যেতাম মুক্ত বিহঙ্গে। খোলা আকাশ, সবুজ বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত। দৃষ্টি ফেলে তাকালেই শুধু সবুজ আর সবুজ। একবার বৃহঃপতিবারে কিন্ডারগার্টেন পালালাম— তারপর কি বকা! আহ সেসব এখন মধুর স্মৃতি! ছুটি শেষে বেড়িয়ে পড়তাম মাঠে, ঘাটে, নদীতে— যেন এক বন্ধিখাঁচার পাখি ছাড়া পেয়ে উড়ে চলে অজানা গন্তব্যে। দুপুরের খাবার খাওয়ার কোনো খোঁজ- খবর নেই। আম্মুর স্বাধীনতা পেয়ে উড়নচণ্ডী হয়ে যাই, অতঃপর সন্ধ্যার পাখিদের সাথে বাড়ি ফিরি। এবেলায় সব স্মৃতি। মানুষ কি কখনো শৈশবের স্মৃতি ভুলতে পারে? আমার কাছে মনে হয় বৃদ্ধ বয়সের সময় কাটে শৈশবের স্মৃতিকে পুঁজি করে।

জীবন বড় অদ্ভুত! আসলেই অদ্ভুত।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।