আলতার রং লাল

অমাবশ্যার বুনো অন্ধকার। মাঝ রাতের এই গভীর আঁধারে যেন গ্রামটা অনন্তকাল ধরে ঘুমিয়ে আছে। আঁধার ডিঙ্গিয়ে কতকাল সূর্যও ওঠে না মনে হচ্ছে। এমন ঘুমন্ত রাতই আদর্শ আলতা চোরার জন্য। সেই কবে বছর দুয়েক আগে এই গাঁয়ে এসেছিল আলতা । সেবার ধরা খেয়ে বেদম পিটুনি খেতে হয়েছিল। ধরা অবশ্য খেতনা। সামান্য ভুলটুকু না করলে আলতাকে কেউ আর হাতের নাগালে পেতনা । এখনও সে রাতের কথা মনে পড়লে খুব আফসোস হয় । এই দুবছরে আলতার হাত আরও পেকেছে । স্বয়ং অধীশ্বরও যেন ওর হাতের গতিবিধী বুঝতে পারেন না ।
আলতা এখন অন্ধকারে আরও ভাল দেখতে পায় । আলতা গ্রামে ঢুকল । বৈশাখের ছিন্ন বাতাসও তার অস্তিত্ব টের পেলনা । গোলাম ভাই গতকালই বিদেশ থেকে এসেছে । অন্য চোরদের কাছে এই খবর পৌছানোর আগেই আলতাকে কাজ শেষ করতে হবে । গোলাম ভাই খুব ভাল মানুষ । বছর পাঁচেক আগে গোলাম ভাই যখন বিদেশ যাচ্ছিল তখন রাস্তায় আলতার সাথে দেখা হয়েছিল । আশেপাশের দশগ্রামে আলতার হাতটানের নাম-ডাক তখনও ছিল । তা জানা স্বত্বেও গোলাম ভাই আলতাকে ডেকে একশ টাকার নোট ধরিয়ে বলেছিল , আলতা আর এসব কাম কাইজ করিস নে । এই নে ধর টাকাটা । আমার জইন্যে দোয়া করিস । আলতা কচকচে একশ টাকার নোট হাতের মধ্যে গুজে গোলাম ভাইকে একটা ছালাম দিল । আর বলল, ভাই আমি ওসব কাম কবে বাদ দিয়ে দিছি । আপনি কি বিদ্যাশ যাচ্ছেন?
-হরে ভাই ।
ওটাই ছিল গোলাম ভাইয়ের সাথে আলতার শেষ কথা ।
গোলাম ভাইয়ের দরজার সামনে এসে আলতা হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেল। গ্রামের গরীব আর অভাবী মানুষের জন্য গোলাম ভাই কম করেন না । সামনের চেয়ারম্যান নির্বাচনে দাঁড়াবে শোনা যাচ্ছে । তাঁর ঘরে চুরি করায় আলতার মন সায় দিচ্ছেনা পুরোপুড়ি । ঘড়ের দক্ষিনে আমগাছের গোড়ায় বসে একমনে ভাবছে আলতা। হাতে টাকা-পয়সার বড্ড অভাব। চুরি না করলে না খেয়ে মরতে হবে । আচ্ছা, গোলাম ভাই এর কাছে কিছু সাহায্যও তো চাইতে পারে সে। এমন কিছু ভাবতে ভাবতেই সব নিশ্তব্ধতা যেন ভেঙে গেল । আলতা দৌড়ে পালাবে, এমন সময় অদ্ভুত গোঙানীর আওয়াজ শোনা গেল। শরীরের সব শক্তি দিয়ে কেউ একজন চিৎকার করতে চাইছে কিন্তু সেই আওয়াজ তার গলার ভিতরেই আটকে আছে। আলতা দাঁড়াবে না পালাবে বুঝতে পারছে না। জানালার এক পাশের পাল্লা হালকা হা হয়ে আছে। আলতা সাবধানে উঁকি দিতে গেল। ঠিক তখনই কেউ একজন তার পিঠে খোঁচা দিল। আলতা হচকিত হয়ে পিছন ফিরে তাকাল। গামছা দিয়ে মুখ জড়ানো। তার উপরে তাজা রক্তে লাল হয়ে আছে পুরো মুখ, শরীর। লোকটি একটি বড় ছোরা আলতাকে দিয়ে বলল, একদম খালের মইধ্যে ফেলবি, কেউ যেন টের না পায়। যাহ, তাড়াতাড়ি। আর সপ্তাহ খানেক আমার সাথে দেখা করনের কাম নাই। যাহ ।
আলতার চোখ পাকা মরিচের মত লাল হয়ে গেছে। আলতা কিছুই জানে না এসবের, কিন্তু কিছু না জেনেও সব কিছু জানার ভান করা ছাড়া আর কোন উপায়ও নেই। আলতা ছোরা নিয়ে বিলেতি ঘোড়ার মত গলা লম্বা করে দৌড় দিল। আলতা দৌড়াতে পারে। এক্ষেত্রে দশ গ্রামে তার সমকক্ষ কেউ নাই। এক দৌড়ে দুই তিন গ্রাম পেছনে ফেলতে পারে। কিন্তু আজ কি হলো আলতার? আলতা হাঁপিয়ে যাচ্ছে। পালনোর জন্য মানুষ নির্জন অথবা গোপন জায়গা খোঁজে, আর ভয় পেলে খোঁজে আশ্রয়, লোকালয়। অন্যদিন হলে আলতা লোকালয় এড়িয়ে যেত। কিন্তু আজতো সে পালাতে চাইছে না। তার চাই আশ্রয়। লোকালয়। এবারও আলতা অজান্তেই আরও একটি ভুল করে বসল। ভয়ার্ত আলতা কখন যেন লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। একদম আমজাদের চায়ের দোকানের সামনে এসে মুখ থুবড়ে পড়ল আলতা। আমজাদের দোকান মাঝ রাত অবধি খোলা থাকে। কোন কোন দিন সারারাতই খোলা থাকে। সেরাতেও ঝাঁপ বন্ধ করে তাসের আড্ডা জমেছিল আমজাদের দোকানে । আলতার পায়ের শব্দে সবাই বের হয়ে আসল। আলতা উন্মাদের মত পড়ে আছে। ওর বুকের ছাতি নদীর ঢেউ এর মত উঁচু হচ্ছে আবার নিচু হচ্ছে। সবাই এসে আলতাকে ধরল, কিন্তু একি ? আলতার হাতে তাজা রক্ত। পাশেই পড়ে আছে রক্তাত্ব একহাত ছোরা। কেউ একজন আলতার হাত পা শক্তকরে বেঁধে ফেলল। আলতা চোরা খুন কোরছে। ওরে শক্ত কইরা বাঁধ! শুকনো মেহগনির ডাল হাতে কালো চেহারার একটা লোক, আলতার পশ্চাতে একটা কসিয়ে বারি দিয়ে জিজ্ঞেস করল, কারে খুন করছস তুই? আলতা লোকটির চোখের দিকে তাকাল।
পিঠ ঠেকিয়ে গাছের সাথে বাঁধা আলতার পুরো শরীর। অপরাহ্নের সূর্যমূখী ফুলের মত মাথা নিচু হয়ে আছে। এমন মার খাওয়ার জন্যেই জন্ম হয়েছে তার। এখনও দুই কিস্তি কিল ঘুশি হজম করতে পারবে সে। কিন্তু কোই, কেউই আর আলতার গায়ে আর হাত তুলছেনা। লাল চোখা সেই ছিমছাম শরীরের লম্বা লোকটি, সেও হাঁপিয়ে গেছে বোধয় ।
বেলা অর্ধেক গড়ানোর আগেই একটি জিপ গাড়ি নিয়ে পুলিশ আসল। প্রথমে জনা দশেক এবং এই মাত্র আরো দশ জন পুলিশ আসল। সাথে আরও দুই তিন গ্রামের মানুষ। পাই পাই করে খুজেও কোথাও কোন লাশ পাওয়া গেল না। সকাল থেকে শুধু গোলাম ভাইকে পাওয়া যাচ্ছে না। গোলাম ভাই এর ই যে কিছু হয়েছে এতে কোন সন্দেহ নাই।
পুলিশ এসে আলতাকে দুই এক ঘা দিতেই আলতা কেকিয়ে উঠল। ওর শরীর কাপছে এখন। এই লাশ কোথায় হাওয়া হয়ে গেল। লাশ না পওয়া পর্যন্ত যে তাকে বেদুম পিটুনি খেতে হবে এতে কোন ভুল নেই। অনাগত দুই এক দিনের জন্য বড্ড ভয় হচ্ছে আলতার। আলতার বউ এল কাঁদতে কাঁদতে। একের পর এক যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে । এই কাজ করতে গেলা ক্যান মুনতার বাপ? মানুষ মারবার গেলা ক্যান? আমি যদি আগে জানতাম তোমারে ঘরে আটকায়ে রাইখতাম।
আলতা কোন ক্রমে বউ এর দিকে তাকিয়ে বলল, বউ এইসব কথা কইস নে! আমি চোর, খুন করা আমার কাম না। আমি খুন করি নাই।
আলতার চারপাশে এখন গ্রামের অর্ধেক মানুষ। সাধারনত চেয়ারম্যানের বড়সর জনসভাতেও এর চেয়ে কনম মানুষ হয়। এর আগে অন্য সময় গুলোতে আলতা টানা মার খেয়েছে। এইবার সেই তুলনায় অনেক কম। উচ্চতর অপরাধে অভিযুক্ত আলতা বুঝেছে মাইরও ক্লাসভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়। তবে এ যাত্রায় গোলাম ভাইএর লাশ না পাওয়া গেলে রক্ষে নেই। এলাকার গন্যমান্য সবাই উপস্তিত। মেম্বার সকাল থেকেই এখানে হাজির। চ্যেয়ারম্যান সাহেবও চলে আসবে ঘন্টাখানেকের মধ্যেই। সবাই এসে আলতাকে কড়া করে জিজ্ঞেস করল, এরে আলতা , ভালয় ভালয় কইয়া দে, গোলামের লাশ কোই রাখছিস?
আলতা শুকনো মুখে ভয়ে ভয়ে মাথা তোলে।
-আমি গোলাম ভাইরে মারি নাই। বলতেই কয়েকজন অতি উতসাহি, পোক্ত লাঠি দিয়ে আলতাকে মারতে তেড়ে গেল। পুলিশের কন্সটেবল কোন রকমে তাদের কে সামলে নিয়ে আলতার দিকে এগিয়ে গেলেন। আলতাকে কান ধরে টেনে উপড়ের দিকে তুলে ফেললেন। আলতা যন্ত্রণায় হাউমাউ করে কেদেফেলল।
-স্যার স্যার, মাফ করেন, আমি যা জানি তাই কবো। স্যার !
আলতার কোন কথাতেই কারো মন ভরে না। সময় গড়িয়ে যাচ্ছে। আলতা যেন পুরো গ্রাম আর এক কুড়ি পুলিশদের নিয়ে খেলছে। সারাদিন কয়েক কিস্তি মার খেয়ে আলতা সত্যি সত্যি বেশ ঝিমিয়ে পরয়েছে। তার মধ্যে সারাদিনই এক প্রকার না খাওয়া। কয়েকগ্লাস পানি আর একটা বন রুটি ছাড়া কিছুই পরেনি পেটে। আলতা ও মনে মনে চাইছে গোলাম ভাইয়ের লাশটা যেন পাওয়া যায়। ওটা পাওয়া গেলে পুলিশ তাঁকে এখান থেকে নিয়ে যাবে। কিন্তু না, এতক্ষণেও গোলাম এর কোন হদিস পাওয়া গেলনা ।
শেষ বিকেলে একটা ঘটনা ঘটল। গ্রাম জুড়ে সবাই হা হবার জোগাড়। নিস্তব্ধ গ্রাম থেকে যেন হঠাৎ হৈহৈ রৈরৈ আওয়াজ শোনা গেল। ক্লান্ত, শ্রান্ত পাখি গুলো বিছলিত হয়ে উড়তে লাগল। গোলাম ভাই ফিরা আইচে। গোলাম ভাই মরে নাই। আগে আগে চার পাঁচ জন অল্প বয়সী এই বলে বলে ছুটে আসতে লাগল। পিছনে ছোট খাটো একটা বহর নিয়ে ধাই ধাই করে এগিয়ে আসছেন গোলাম ভাই ।
সত্যি, গোলাম ভাইএর স্পষ্ট মুখ দেখা যাচ্ছে। হালকা লাল রঙের পাঞ্জাবী পরা। তার চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। ও চোখে ভয়ের লেশমাত্র নেই। গ্রামের সবাই অবাক। গোলামের পরিবারের কেউ কেউ তো গোলামকে দেখে জ্ঞানই হারিয়ে ফেলেছে। আলতা বউ এর দিকে তাকায়। শত যন্ত্রণা পাশকাটিয়ে আলতার মুখে হাসির মৃদু একটা রেখা ফুটে উঠল।
-বউ, আমি তরে কইছিনা, আমি গোলাম ভাইরে মারি নাই।
আলতার বউ আচল গোজা মুখে আলতার কাছে এগিয়ে এল। নাক মুখের রক্ত আলতো করে মুছতে মুছতে বলল, এ কতা জোর গলায় আগে থেকেই কতি পাইরলেনা ?
-কইতি তো চাইরে বউ, যত জোরে কইতি যাই মাইনশে তত জোড়ে পিডায়। তুই বাড়ি যা। মাইয়াডা তরে খুঁজব। এহন আর ভয় নাই। গোলাম ভাই ফিরা আইচে।
শুকনো চোখে টনটনে জলে আলতার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে। তবুও গোলাম ভাইয়ের চেহারা স্পষ্ট দেখতে পায় সে। যুদ্ধ ফেরত বিজেতার ভঙ্গিতে বীর দর্পে এগিয়ে আসছে গোলাম ভাই। একটা লোক গোলাম ভাই এর পিছনে পিছনে তাল মিলিয়ে একবার হাটছে আবার ছোট ছোট পায়ে দৌড়াচ্ছে কিন্তু গোলাম ভাইকে অতিক্রম করছে না। নিশ্চিত ভাবেই গোলাম ভাইয়ের এই নতুন সাগরেতকে গ্রামের কেউ আগে কখনও দেখেনি। আলতার কিন্তু তেমন মনে হচ্ছে না। চোখটা বড্ড চেনা চেনা। ওই টক টকে পাষণ্ড চোখ দেখেই যে প্রাণভয়ে গত রাতেই পালিয়েছিল আলতা।
আলতার মুখ লাল হয়ে আসে। চোখ মুছতে মুছতে ফিরে যেতে থাকে আলতার বউ। যেতে যেতে অজানা আশঙ্কায় বারবার পিছন ফিরে তাকায় আলতার বউ। ভাবে কেউ যদি গাঁয়ে হাত দেয় তো দৌড়ে গিয়ে পিঠ পেতে দেবে। আপাতত আর তেমন লক্ষণ পায় না আলতার বউ। ধীরে ধীরে আলতার বউ আলতার চোখের আড়ালে চলে যায়। লম্বা লাল চোখা লোকটির চোখে চোখ পড়ে আলতার। আলতার চোরা মশ্তিষ্ক কি ঘটছে বা কি ঘটবে কিছুই বুঝতে পারে না। এতক্ষণ ধরে আলতার গায়ে কেউই হাত তুলছে না। কেউ কেউ তার দিকে তাকাচ্ছে কিন্তু কিছু জিজ্ঞেসও করছেনা।
গোলাম দ্রুত পায়ে পুলিশের গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। পুলিশ কনসট্যাবল গোলাম ভাইকে দেখে হা হয়ে গেছেন। গোলাম ভাইয়ের দিকে করমর্দনের হাত বাড়িয়ে দিলেন। গোলাম ভাই তা উপেক্ষা করে পুলিশকে জড়িয়ে ধরলেন। পুলিশের নাম ধরে বলতে লাগলেন, বড় বাচা বাইচে গেছি ভাই! আমি লাশ হয়ে যেতাম ভাই! আল্লায় আমারে বাঁচাইছে।
পুলিশ গোলাম ভাইকে সান্ত্বনা দিয়ে বসতে বলল। পুলিশ সব কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই গোলাম ভাই আলতার দিকে আঙুল তুলে তাকিয়ে থাকে। গোলামের সাগরেতও আলতার দিকে তাকিয়ে থেকে মেকি কম্পনে কাপতে থাকে। আলতার বুক আতকে উঠল। কি হচ্ছে কোন কিছুই বুঝে উঠতে পাড়ল না সে। খুন কি কেউ হয়ই নি? তাহলে রকত মাখা ছোড়া, গোঙানির আওয়াজ, লাল চোখা লোকটা সবই কি মিথ্যে। এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ আলতার চারপাশে ছায়া আরও ঘন হয়ে বৃত্তাকার আঁধার সংকুচিত হয়ে আসতে লাগল।
-ক চোরের পো চোর, তুই কারে খুন করছস? লাশ কোই? তোরে এইবার শেষ কোইরে ফেলাবো।
নানান জনের নানান কথা আর মাইরের শব্দে অনেক ক্ষণ আলতার চিৎকার শোনা গেল। আর মাইরেন না। এদের মধ্যে আলতা দুই একজন কে চেনে । তাদের নাম ধরে আলতা বলতে লাগল । মাজেদ ভাই, ও মকবুল ভাই, আপনেরা আমারে পুলিশে দেন। আমারে আর মাইরেন না ।
দূর থেকে দুই একজন মানুষ ছুটে আসছে । বড় বড় দম নিতে নিতে তারা এসে বলল, লাশ পাইছি। উত্তরের খালে একখান লাশ ভাইসা উঠছে। পেটে বুকে ছড়ির দেড় ইঞ্চির ও বেশী ক্ষত। দাড়িতে সারা মুখ ঢেকে আছে। তবুও কারই তাকে চিনতে কষ্ট হয় নাই। চেয়ারম্যান চাচারেই মারছে শালা। বুড়া মানুষটারে পাষাণের মত কোপাইছে।
এই কথা শোনার পর সমস্ত মানুষ তীব্র ক্রোধে ঝাঁপিয়ে পড়ল আবারও। এবার আর আলতার কোন শব্দ শোনা যাচ্ছে না। মাফ চাইবার, করুনা পাওয়ার মত আর কোন অবস্থা নেই তার। পুলিশ বাসি ফুকতে ফুকতে এগিয়ে আসল। আর মাইরেন না। হইছে, ছাড়েন । ওর শাস্তি ও পাইব। কয়েক জন পুলিশ কোন মতে জায়গাটা ফাঁকা করে। পুলিশ আলতার হাতে হাতকরা পড়িয়ে টানতে লাগল । আলতার শরিরে বল নেই। চোখের মৃত্যু  দ্যুতিতে দূর গ্রহ নক্ষত্রের ঘোলাটে আলো পুঞ্জীভূত হতে লাগল। আলতা সেই লাল চোখা লোকটিকে দেখতে পেল । লোকটি আলতাকে মারতে মারতে হাঁপিয়ে গেছে। গা থেকে ঘাম ঝড়ছে। লোকটি গোলামের কানে কানে কি যেন বলছে । মাথা ঝুঁকে পরে আছে আলতা। ছোপ ছোপ রক্তে পথের ধুলো পিঙ্গল বর্নের হয়ে গেছে। আলতা আবার একটু চোখ তুলে তাকাল। গোলাম ভাই আলতার দিকে চেয়ে আছে। তার মুখে, চোখে অদৃশ্য বিভৎসতার ভয়ার্ত হাসি।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।