ইট’স আনফেয়ার

লিখেছেন
আতিক ফারুক

আমার খুব রাগ৷ পান থেকে চুন খসে পড়লেই রেগে-মেগে যা-তা করে ফেলি। একবার রেগে গিয়ে বাবা’কে ভাই বলে ফেলেছিলাম। আরেকবার এক বুড়োকে বলেছিলাম তুই। এই রাগ নিয়ন্ত্রণেরও ওষুধ আছে শুনলাম। আমাদের নবিজি সাঃ বলেছেন; দাঁড়ানো অবস্থায় রেগে গেলে বসে পড়ো, বসা থাকলে শুয়ে পড়ো। এই আমল করা হয় নি কোনোদিন। রেগে গেলে অতকিছু মাথায় আসে না। কীভাবে রাগের মাথায় কার শরীর থেকে রক্ত শুষে নেওয়া যায়, পিঠে কিল বসিয়ে লাল করা যায়— এই চিন্তায় মগ্ন থাকা হয়। 
রেগে গিয়ে কতজনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছি, কতজনের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছি বলা ভার। একদিন বুঝে গেলাম— ইট’স আনফেয়ার। হৃদয়ে রক্ত ক্ষরণ হয় এতে। ক্ষত হওয়া হৃদয়ের দাগ সহজে মুছে না। সহস্র বছর থেকে যায়। মা বলল— বাবা! এতো রাগারাগি ঠিক না, খোদায় বেজার হয়৷ বাবা বলল; তোরে এতো রাগ দিছে কেডা! এভাবে ক্রমাগত উবে গেল সকল ক্ষোভ। এখন আমার উপর কেউ রেগে গেলে চুপ থাকি। কিছু বলার সাহস নেই, বলতে গেলে কানে বাজে ইট’স আনফেয়ার। 
আমার এক ছাত্রী ছিল; পিংকি। তাকে, মজা করে বলিউডের প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বলে ফেলতাম। কি রাগ! নাকমুখ ফুলে উঠত একেবারে। আরেকদিন বলতে গিয়ে একরকম ঝাড়ি খেয়ে থ হলাম। আমার ছাত্রী— অথচ, রেগে গিয়ে বলে দিল স্যার! ইট’স আনফেয়ার।  

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।