“???” ও তিন গোয়েন্দা

ইয়ামিন ইসলাম তাবিন :

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কিশোর থ্রিলার সিরিজের নাম আসলে তিন গোয়েন্দা প্রথমের দিকে থাকবে। শুরুটা রকিব হাসান এর দ্বারা যা এখনও শামসুদ্দিন নওয়াব এর হাত ধরে চলছে।
‌রকিব হাসান তার এক সাক্ষাত্কারে বলেন”তখন তিনি সদ্য ভার্সিটি শেষ করেন।একদিন অন্য বই লিখে একঘেয়েমি তে পরে গেলে পুরনো বই এর স্তূপ থেকে বই নিয়ে পড়া শুরু করেন।বই টি ছিলো the three investigator। বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এক নিঃশ্বাসে পরে শেষ করেন।
তখন তিনি তিন গোয়েন্দা লেখার আইডিয়া নিয়ে পান। পেপারব্যাক কাগজে তিন গোয়েন্দার যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৫ সালের আগস্টে। তিন গোয়েন্দার কাহিনী মূলত ইউরোপ; আমেরিকান বিভিন্ন মুভির আলোকে আবার কিছু এসেছে রবার্ট আর্থুর এর three investigator এবং এডিন ব্রাইটন এর famous five এর থেকে।
কিশোর পাশা ~জুপিটার জোনস(three investigator)
মুসা আমান ~পিট ক্রেনসো(three investigator)
রবিন মিলফর্ড ~রবার্ট বব এন্দ্রুজ(three investigator)
জিনা ~জর্জিনা জর্জ কিরিন(famous five)
রাফিয়ান ~টিমি(famous five)
কিশোর, মুসা,রবিন,জিনা, রাফায়ান এর সাথে three investigator এবং famous five এর মাঝে মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
এর মাঝে three investigator এর লস এঞ্জেলেসে এবং famous five এর ইংল্যান্ড এর ডরবিট কাউন্টি তে দেখা মিলে। তিন গোয়েন্দার মতো সিরিজ ফ্রান্সেও সমান ভাবে জনপ্রিয়। প্রথম আলোর এক জরিপে দেখা যায় দেশের ৪৫০ জন কিশোরের মাঝে ৩৮১জনই তাদের পছন্দের শীর্ষে তিন গোয়েন্দাকে রাখে।প্রথম দিকে খন্ড খন্ড আকারে বের হলেও পরবর্তীতে তিনটি গল্প একত্রে ভলিউম আকারে বের হতে থাকে। রকিব হাসান ১৯৮৫-২০০৩ পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে লিখে যান।হীরার কার্তুজ ধারাবাহিক ভাবে লিখা তার সর্বশেষ গল্প।
অন্যান্য বিদেশি কাহিনী অবলম্বে গল্প গুলো হলেও লেখক যে ধরনের মুন্সিয়ানা দেখান একত্র করতে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
তিন গোয়েন্দার মাঝে রবিক হাসানের নিজের সবচাইতে জনপ্রিয় চরিত্র ছিল রবিন।৩০ বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলো কিশোর হতে যুবকে পা ফেলে চলা মানুষ এখনও মাঝে মাঝে মনে করে চলে রকি বিচ এর সেই তিন কিশোর এর সাথে হারিয়ে যাওয়া মুহুর্ত গুলো। জাঙ্ক ইয়ার্ড এর নিচে তাদের একজন হিসেবে নিজেকে ভাবতে ভাবতে তাদের একজন হয়ে ওঠা এখনও মনের কোনে উকি দিয়ে যায় মাঝে মাঝে। হয়ত এখনও কেউ বলে উঠবে “হ্যাল্লো কিশোর বন্ধুরা”।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।