– ওবাইদুল ইসলাম

সন্ধ্যা হতে’ই সুন্দর চাঁদের আগমন। নগরীর পথ ঘাট উজ্জল আভায় জেগে উঠে। গন্তব্যহীন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে ছুটছি তিনজন। হুটহাট প্লান। কে কোথায় যাবে জানা নাই। রিক্সা ভাড়া করে ছুটলাম একদিকে।

এইসব দিনরাত্রিতে আমার বোহেমিয়ান হতে ইচ্ছা হয়। বাতাসে উড়তে,চাঁদের আলোয় স্নান করতে বড্ড ইচ্ছা করে। পথের পর পথ মাড়িয়ে জগতকে পিছু ফেলতে ইচ্ছা হয়।

রিক্সা চলছে। পড়ন্ত বিকেলটা ধীরে ধীরে রিক্সার চাকার সঙ্গে পাল্লা ধরে মিঁইয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যার ভূগর্ভে। গন্তব্য একটা ঠিক হয় এতক্ষণে। গন্তব্যহীন মানুষ চলতে পারে না। দিনশেষে তার একটা গন্তব্য প্রয়োজন।

সন্ধ্যার আঁধারে চাঁদের আলো ডিঙিয়ে হাঁটছি সারিবদ্ধ গাছের পথে। চাঁদটাও কি সুন্দরভাবে এগুচ্ছে। বেসুরো গলায় গান ধরা হয় মাঝেমাঝে। মিহি ঠান্ডা বাতাসে মন লেপ্টে যায়। হারিয়ে যায় মেঘের আড়ালে।

একটা সুন্দর জায়গা। তাদেরকে চমকে দেবার জন্য সাক্ষাতে গেছি। দেখে খুশি হয়। তারপর অনেককাল পর আমরা আড্ডায় মেতে উঠি। দিব্যি আড্ডা। আমাদের আড্ডার পথে পথে রাত যুবক হতে থাকে। তারপরও থামা হয় না। যেন বাড়ি ফেরার কোনো চিন্তা নাই।

চোখজুড়ে সবুজের সমাহার। দৃষ্টির সীমানা পার হলেই বিল। নানা ধরণের ক্ষ্যাতি করা হয়। শূন্য জায়গা। ফাঁকা মরুভূমির মতন। দেখলেই মন শীতল হয়ে আসে। চক্ষু স্তব্ধ হয়ে থাকে।

তারপর রাস্তায় বের হই এমন সুন্দর জায়গাকে বিচ্ছেদ দিয়ে। মনে মুহুর্মুহু কান্না বা কষ্টের প্রপাত জারি হয়। একটা চায়ের দোকানে গিয়ে চা পান করা হয়।

চা পান শেষে দ্বীর্ঘ একটা পথ হেঁটে আসা হয়। যেন মুহূর্তেই সব ফুরিয়ে গেলো। সব ফুরিয়ে গেলে আমরা ‘শাহি মামা হালিম’ এ বসি। তারপর ভোজন বিলাসে মেতে উঠি।

দ্বীর্ঘ একটা পথ মিহি ঠান্ডা বাতাস গায়ে মেখে বাড়ি ফেরা হয়। এমন রাত বারবার আসুক জীবনে। নতুন আঙ্গিকে। নতুন রুপে। জীবন সুন্দর হোক।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।