টুয়েলভ এ.এম.

তোফাজ্জল হুসাইন:

শামা থেকে রাতের ট্রেনে বিহান্দ্রিপুর যাচ্ছি। পুরো ট্রেন জুড়ে সুনশান নিস্তব্ধতা, ঘুম রাজ্যের পরিবেশ ছেয়ে আছে ট্রেনের মধ্যে। হঠাৎ খুব রূঢ় কন্ঠে কি যেন বলতে বলতে পেছনের বগি থেকে এগিয়ে আসছে মধ্য বয়সী এক লোক। একি কথা বার বার বলছে, সামনে ত্রিশাল ইসটেশন, কেউ গাড়ী থাইকা নাইমেন না, রাইত বারোটা বাইজি গেছে। দুইবার বলতে বলতে অন্য বগিতে পার হয়ে গেল লোকটা। কিন্তু আগামাথা কিছুই বুঝলাম না আমি। কউকে ডেকে জিগ্যেস করবো এমনও পাচ্ছি না। সবাই ঘুমে, আর যে কয়জন সজাগ সবাই জড়োসড়ো হয়ে বসে আছে গুমোট বেধে। কিছুক্ষণ পরেই সামনের স্টেশনে ট্রেন ব্রেক কষল। একটা পানি আর কিছু নাস্তা নিতে হবে। সারা রাতের জার্নি। ট্রেন থেকে নেমে একটা দোকান ই দেখতে পেলাম। আর পুরো স্টেশন জুড়ে ঘুটঘুটে অন্ধকার। শুধু স্টেশনের এরিয়াটা পরিস্কার, এর বাহিরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। দোকানী কে বললাম, ভাইয়া একটা পানি আর এক হালি কলা দেন, পেছন ফেরে থাকা দোকানী লোকটি আমার দিকে ফিরলেন কিন্তু তার শরীর আগের মতোই আছে। শুধু মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকালেন। আমার চোখে যেন গরম শিশা ঢেলে দেয়া হয়েছে। ভয়ে বুক শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে। দম বন্ধ হয়ে গেছে আমার। ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে। চোখ বন্ধ করে ট্রেনের দিকে দৌড় দিলাম। কিসে যেন পিচ্ছিলে পড়ে গেলাম। আমার সারা গা রক্তে লাল হয়ে গেছে। পুরো ফ্লোর রক্তে মাখা। আমি নামার সময় পুরো স্টেশন নরমাল দেখেছি। হাতে দাঁতে রক্তভর্তি এক ঝাক মানুষ আমার দিকে তেড়ে আসছে, করো এক চোখ বের হয়ে ঝুলে আছে, কারো পা নেই। কারো মাথার খুলি দেখা যাচ্ছে। সবাই এক যোগে ঝাপিয়ে পড়লো আমার উপর। ডিনার শেষ? খেয়েছেন আপনি? এই ভাইয়া, রাতের খাবার খেয়েছেন? কেবিন বয়ের ডাকে ঘুম ভাঙে, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি এগারোটা পয়তাল্লিশ। ছেলে টাকে জিগ্যেস করলাম, পরের স্টেশনের নাম কি? চোখ মুখ লাল করে আমার দিকে তাকিয়ে বললো, সামনে ত্রিশাল ইসটেশন ভাইয়া… বারো ডা বেজে যাবে, ওখানে ভুলেও নামবেন না।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।