Nijeke Shopno dekhte daw- Shuvro kagoj

নিজেকে একটু স্বপ্ন দেখতে দাও

ornob-oronno- Shuvro kagoj
লিখেছেন
অর্ণব অরণ্য

মুলা ঝুলানো ব্যাপারটার সাথে আমরা সবাই পরিচিত।খরগোশের সামনে মুলো বেধে দেয়া হয়,খরগোশ সারাদিন ছুটবে কিন্তু মুলো ধরতে পারবে না।আমাদের সাথেও জন্মের পর থেকেই “মুলা ঝুলানো খেলা” খেলা হচ্ছে।পুরো ছাত্রজীবন এই খেলা চলে।এই খেলার শুরু হয় শৈশবে মা বাবার “লেখাপড়া করে ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার হলে তবেই না খোকা গাড়ি চড়বে”এই জাতীয় কথা থেকে। কিন্তু বাবা মা কখনো ভেবে দেখে না এই মুলোর পেছনে ছোটার ক্ষমতা তার সন্তানের আছে কি না।পুরো ছাত্রজীবন এই খেলা চলে।প্রতিটা বোর্ড এক্সামের বছর বলা হয়,” এই একটা বছর কষ্ট কর,তারপর তো একদম ফ্রি!”কিন্তু হায়,সেই ফ্রি টাইম আর আসে না।নতুন ক্লাসে উঠলে শুরু হয় নতুন যুদ্ধ, নতুন ভাবে দৌঁড় করানো।সবচেয়ে বড় মুলোটা ঝুলানো হয় কলেজ লাইফে।দুইটা বছর কষ্ট করলে হোক লাইফ রিলাক্স!কখনো ভাবে না যে ভার্সিটি লাইফেও অনেক চাপ থাকতে পারে।কলেজ লাইফে এই লোভ দেখানোটা সবচেয়ে বেশি রসিকতা হয়ে দাঁড়ায় তাদের জন্য যাদের দৌঁড় করানো হচ্ছে ডাক্তার হওয়ার জন্য।মেডিকেলে লাইফের নির্মমতার কথা না ভেবেই আশ্বাস দেয়,”আর দুইটা বছর, তারপর তো ছুটি!”আমরা প্রায় সব স্টুডেন্ট হয়তো বেশি যে সমস্যায় ভুগি তা হলো প্রত্যাশার চাপ।আমাদের বাবা মা স্বপ্ন দেখানো শিখাতে না পারলেও, স্বপ্ন চাপিয়ে দিতে বেশ পারে।তাদের সব স্বপ্ন যেন লাগামছাড়া।তাদের প্রত্যাশার চাপ বয়ে বেড়ানো,সেটা পূরণ করা,এইতো জীবন!
একটা বোর্ড এক্সামে রেজাল্ট ভালো করে ফেললেই হলো,নেক্সট বোর্ড এক্সামে স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে বোর্ড র‍্যাংক করানোর।এই প্রত্যাশার চাপেই নেক্সট বোর্ড এক্সামের রেজাল্ট হয় ভয়াবহ। 
ছেলে ম্যাথে ১০০ পেলেই স্বপ্ন দেখতে শুরু করবে,ছেলে আমার ইঞ্জিনিয়ার হবে।আর সবচেয়ে দুঃখজনক, কোনো কারণ ছাড়া হুদাই ছেলে জন্মের পরই স্বপ্ন দেখতে শুরু করে,”ছেলে আমার বিরাট ডাক্তার হবে!”চিন্তা করে দেখে না মেডিকেল লাইফের নির্মমতা সহ্য করার ক্ষমতা তার আছে কি না।স্বপ্ন দেখা পর্যন্ত ঠিক আছে,কিন্তু যখন সেই স্বপ্ন প্রত্যাশার চাপে পরিণত হয় তখনই গন্ডগোল বাধে।প্রত্যাশার চাপে ধ্বসে পড়ে সেই ছাত্র।কারো যদি ডাক্তার হওয়া স্বপ্ন হয় তবে সে সেই স্বপ্নের পেছনে দৌঁড় করাতে হবে না।সে নিজেই ছুটবে।সবার ক্ষমতা নেই মেডিকেল লাইফের নির্মমতা সহ্য করার।ডাক্তার হওয়ার প্রবল ইচ্ছাই সম্ভবত মেডিকেল লাইফের কষ্ট সহজভাবে নিতে সাহায্য করে।নয়তো সম্ভব না। 
ছেলে মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখার আগে ১০১ বার ভাবা উচিত এই ৫-৬ বছরের চাপ সে নিতে পারবে কি না।মেডিকেল লাইফের কষ্ট সহজভাবে নিতে ছাত্র সম্ভবত নিজেরাই নিজেদের মুলো দেখায়,নিজেকে স্বান্তনা দেয় এই বলে, ডাক্তার হওয়ার হয়ে যখন মানুষের সেবা করবো তখন এসব কষ্ট তুচ্ছ মনে হবে(Tamaদিদি,এটাই তো বলিস না তুই?)।তাহলেই বুঝুন কত প্রবল ইচ্ছা তার ডাক্তার হওয়ার।ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখিও না প্লিজ।বিশ্বাস রাখো,আমি নিজেই স্বপ্ন দেখে নেবো,যদি আমার সত্যি ইচ্ছা থাকে।

বাবা মা স্বপ্ন দেখুক,সমস্যা নাই।স্বপ্ন দেখার অধিকার তাদের আছে।কিন্তু আগে আমাদের নিজেদের স্বপ্ন দেখা শেখাও। তোমাদের স্বপ্ন যেন আমাদের উৎসাহ হয়,তোমাদের স্বপ্ন যেন আমাদের জন্য প্রত্যাশার চাপ না হয়ে দাঁড়ায়। অনেক তো হলো,এবার রেহাই দাও।নিজেকে একটু স্বপ্ন দেখতে দাও।
মুলো ঝুলানো খেলা বন্ধ করো প্লিজ!!!

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।