বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা : পাঠ প্রতিক্রিয়া

গল্পের বই আমি একটানা পড়ে শেষ করতে পারি না। দুই একটা গল্প পড়ে রেখে দেই । আবার পরে বাকিটা পড়ি । এভাবে শেষ করতে দু একদিন সময় লেগে যায় । কিন্তু ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা’র ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটলো । একটা গল্পের পর আরেকটা গল্পের যোগসূত্র আমাকে মুগ্ধতায় শেষ তক নিয়ে গেলো । যেন আমিও এক বাসযাত্রী ।
যে বাসের নাম, গন্তব্য কোনটাই নেই ।

গল্পকার হাসান ইনামের আমি একজন মুগ্ধ পাঠক! ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা’র বের হবার আগ থেকেই পড়ার জন্য উন্মুখ ছিলাম । বইটা হাতে পাওয়ার পরের দিন এক বসায় পড়ে শেষ করে ফেলেছিলাম । আজ দ্বিতীয়বার পড়া হলো ।

নামকরণের দিক থেকে বইটা আকর্ষণীয় ।
শৈল্পিক প্রচ্ছদ আর নামলিপি বইটাকে আরো হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছে । সূচীপত্রে গল্পের সংখ্যা নয়টা হলেও কৌশলে উৎসর্গ পত্রে আরো একটি গল্প বলে দিয়েছেন লেখক ।
প্রথম গল্পের নাম ‘আমার বন্ধু গালিব’ গল্পটার গদ্য মন কেড়েছে খুব, তবে ভাষা সংযত হয়নি । এ জাতীয় গল্পের ক্ষেত্রে ইঙ্গিত দেওয়াটাই যথেষ্ট বলে মনে করি । ‘আতিকুলের ব্যাগে ছিল লাল চুড়ি’ পড়ে মন খারাপ হয়েছে খুব । ‘আম্মাজান আমাকে মিথ্যে বলেছিলেন’ পড়ার পর চুপ হয়ে গেলাম ।
‘বাহাদুর শাহ পরিবহন’ আর ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা’ পড়ে মনে হচ্ছিলো হেঁটে যাচ্ছি এক বাস্তব অতীতের নগরীতে । রহমতুল্লাহ কিংবা রুখসানার জন্য খুব মায়া হচ্ছিল।
কেমন এক ঘোরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাসযাত্রা ।
মূলত ‘শেষ হইয়াও হইলো না’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা
লেখক: হাসান ইনাম
প্রচ্ছদ: সা’দ খোন্দকার
প্রকাশনী: উৎসব
প্রকাশকাল: বই মেলা-২০২০
4.6
রেটিং

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।