বেদনাকে করিলাম আলিঙ্গন

~ তোফাজ্জল হুসাইন 

কাঠুরিয়ার গল্প পড়ে সৎ হবার শপথ নিলাম।
এক ব্যর্থ প্রেমিকের আর্তচিৎকারে
মনে গেঁথে নিয়েছিলাম।
সুখ দেবার সামর্থ আমার নেই,
সেই অভিযোগ স্বীকার করবো,
কাউকে দূঃখ দেব না।

একজীবনে ঘটে যাওয়া সবকিছু
সাদরে গ্রহণ করেছি। না ছিলো সুখ, না দূঃখ।
বজ্রপাতে আকাশ আলোকিত হলো,
বৃষ্টি ভাসিয়ে দিলো পুরো শহর।
আমার বরং আমেজই হচ্ছে,
কল্পনায় সেই তুমি,
তোমার আড়চোখে তাকানো,
ইশারা, ইঙ্গিত, আশেপাশে ঘুরঘুর করতঃ
ফিসফিস করে কিছু বলতে চাইতে।

আমি বুঝি তুমি আমাকে প্রেম নিবেদন করছো,
তোমার ভালোবাসার স্বাগত জানাতে
পুষ্পরথ আয়োজন করলাম,
তুমি বুঝে গেছো আমিও প্রেমে পড়েছি।

আমাদের ভালোবাসার যাত্রা সংবরণ হয়।
একটা মিষ্টি ভুবন তৈরি হলো,
অল্পদিনে কত গভীরে ডুবে গেলাম।
তোমার আমি, আমার তুমি, আমাদের ভালোবাসা,
ভালোবাসার ভুবন এর থেকে সুখের কী হতে পারে?

পৃথিবী আমাকে পিছু ফিরিয়ে নিতে চাইলো!
পৃথিবী আমার বন্ধুবান্ধব, পৃথিবী আমার পরিবার।
তুমি আমাকে ভালোবাসার মোহে আবদ্ধ করে নিলে,
আমি সব অগ্রাহ্য করে আমাদের
ভুবন প্রেমে প্রমে ভাসিয়ে দিতে ব্যস্ত হলাম।

আমার জীবনে তোমার নামে সুখ এলো,
এখন আমার পৃথিবী ভালো লাগে না।
আমাকে ভালোবাসতে শেখালে,
তোমার ঠোঁট, তোমার চোখ,
তোমার কপোলে
প্রেম খুঁজতে শেখালে।

আমাদের ভুবন আলোকোজ্জ্বল হলো, পুষ্পকলি ফুল ফোটালো,
পাখিদের আনন্দে মুখরিত থাকতঃ।
লোডশেডিং নামের বস্তুটা আমাদের
ভুবনে ছিলো না,
তবুও একদিন সব আলো নিভে গেলো!
ফুলগুলো ঝরতে শুরু করলো।

তোমার ঘ্রাণ আর আমাকে পুলকিত করছে না,
আমি প্রেম খুঁজি, তোমার ঠোটঁ পাইনা।
তোমার চোখে প্রেমের মৃত্যু হয়েছে ততক্ষণে।
তুমি আমাদের ভালোবাসার
ভুবন থেকে সরে গেলে,
আমি অন্ধকার দূর করতে যাইনি।
পৃথিবীকে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম
তোমাকে ভালোবেসে,
সেখানে আমার স্থান নেই।

আমাকে প্রেম শিখিয়ে ছিলে,
আজ কোথাও প্রেম নেই।
সুখ অথবা দুঃখ দুটোর একটা মেনে নিতে হয়,
আমি পড়ে রইলাম অন্ধকার ভুবনে।
আর বেদনাকে করিলাম আলিঙ্গন।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।