কৈশোরের প্রেম

– ওবাইদুল ইসলাম

চোখে প্রেম। হৃদয়ে উচ্ছলতা। গভীর কূপ থেকে ডাকে। প্রতিক্ষা আর উত্তেজনায় যেন বেলা কাটে। হৃদয় বারান্দায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। পা দুটো নিশ্চল। বারান্দার বাইরে গাছ,গুল্মলতা। ঘন্টি বাজলে রুমে ঢুকে।

স্যার হাতে হাতে খাতা দেয়। তারপর প্রশ্নপত্র। রুম গুনতে গুনতে শেষ রুমে আমার সিট খোঁজে পাই: এক মেয়ের সাথে। রুমে ঢুকেই থমকে যাই। একেবারে পিছনের সিটের মেয়েকে দেখে। ধীরে ধীরে সিট খুঁজি। কী আশ্চর্য! মেয়েটির পাশেই আমার সিট।

নিশ্চুপে বলি,ধরণী দ্বিধা হও। তোমাতে মিশে যাই। চাই না এ জগত,জাগতিক মোহ। দ্বিধা আর সংশয়ে নিতম্ব বসিয়ে দিলাম পুরনো বেঞ্চিতে। মেয়েটি আড় চোখে তাকায়। আমার দৃষ্টি বেরোয় না খাতার চারকোণ থেকে।

প্রথম দেখায় যতটুকু দেখেছি, ঠোঁটে গোলাপি লিপিস্টিক। চুলগুলো খোপা বাঁধা। পরনে স্কুল ড্রেস। সাদা ধবধবে। ফর্সা-সুন্দর চেহারার সাথে সাদা ড্রেস! বড্ড সুন্দর লাগে।
চোঁখ আটকে যায়।

দ্বিধা আর সংকোচে ফিরিয়ে নেই আঁখিকূল। দিন যায়,মুগ্ধতা বাড়ে। কী এক অপার মূর্ছনায় ডুবে থাকতাম। একদিন,আমায় ফিসফিস কন্ঠে ডাকছে, এই যে শুনুন।

বিশ্বাস করতে পারিনি। ঠিক আমাকে’ই ডাকছে! ‘ষোল নাম্বার নৈবিত্তিকটা কি?’ আঙুলের ইশারায় বলে দেই। তারপর আমাদের কথা হয়। বারান্দায় অপেক্ষায় থাকে প্রতিদিন। আমাকে দেখলেই সুন্দর গাল লাল হয়ে যেতো। চোখ ছলছল করতো। ঠোঁট কিছু বলতে চাইতো, ধীর ধীর কাঁপতো।

কিন্তু ততক্ষণে ঘন্টি বেজে যেতো। কিছু বলতে পারতো না। পরিক্ষার হলে আনমনে বসে থাকতো। একদিন কী কান্ড ঘটলো! ফাইলে কলম নাই। এখন কি করার, বাধ্য হয়ে তার কাছে কলম চাই। পরিক্ষা শেষে কলম ফেরত দিতে গেলে, নিতে নারাজ হয়।

দিনদিন তার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়ে চলে। একদিন হল গার্ড(মেয়েটির স্কুল টিচার)বলে উঠে, কি এতো সখ্যতা কেন!?
সে লজ্জায় চুপসে যায়। সুন্দর চেহারা গোধূলির লালবর্ণ আকাশের মতন হয়ে যায়।

সত্যি বলতে তাকে ভালোবেসে ফেলি। কৈশোরের প্রেম। আবেগ,ব্যথা,আর মুঠিমুঠি একটু ভালোবাসা,আঙুলের ফাঁক গলে ঝলমল করে। আঠারো দিনের স্মৃতি। কি বা আঠারো দিনের প্রেম। এরচেয়ে বেশি নয়।

প্রতিদিন পরিক্ষা শেষে তার চলে যাওয়া দেখতাম। কদমে কদমে বিয়োগ ব্যথা প্রকাশ পেতো। নয়দিনের মাথায় একটা ছোট্ট চিরকুট দেয়। ‘ভালোবাসি।’ আগ্রাহ্য করি। ভালোবাসার সংজ্ঞা বুঝিনি। ভালোবাসা বহন করাটা আমার জন্য কষ্টকর।

তবুও কেমন যেন অনুভূতি কাজ করতো। সেই অনুভূতিগুলো এখন কুঁইকুঁই করে খায় আমার হৃদয়কে। শেষ পরিক্ষার দিন। আমার পরিক্ষা শেষ হয় না। আর সে সবার আগে শেষ করে চলে যায়। আমি স্পষ্ট লক্ষ করেছিলাম,তার চোখ ছলছল,হৃদয়ে বিদায়ের মূর্ছনা।

আমাকে কিছু না বলে চলে যায়। তাকে আগ্রাহ্য করায় কষ্ট পেয়েছিলো বোধ হয়। শেষ পরিক্ষায় কোনো কথা বলেনি। আমিই নিজ ইচ্ছা থেকে কিছু বলিনি।
বন্ধুকে বলে যায়,তাকে বলে দিয়েন: যেন ভালো থাকে সবসময়।

আমি স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি। কিছু করার থাকে না। জীবন আরো অনেক বাকি। এসবে জড়াতে চাইনি। লাইফ সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। হয়তো ক্ষণিকের ব্যথায় চিরদিন সুখকর হবে। প্রথম প্রেম কারো থাকে না,থাকে অনুভূতি। অনুভূতিগুলো আজও বেঁচে থাকে জীবনের আষ্টেপৃষ্ঠে।

আমরা সাহিত্য চর্চাও করবো না, লেখকও তৈরি করবো না, সম্পাদনাও করবো না, কেবল প্রকাশ করবো স্বপ্ন আর সৌহার্দ্য।

আপনার লেখা আজেই পাঠিয়ে দিন শুভ্র কাগজে। এই কাগজ প্রকাশ করবে আপনার প্রীতি।